কিট টেস্ট এবং আলতা টেস্টের মধ্যে পার্থক্য



আপনার কিট টেস্টে পজিটিভ আসার পর আলতা (confirmatory test) করার পর যদি নেগেটিভ আসে, তাহলে এটি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এই অবস্থায় করণীয় কী এবং কেন এটি হতে পারে তা ব্যাখ্যা করতে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।




কিট টেস্ট এবং আলতা টেস্টের মধ্যে পার্থক্য

কিট টেস্ট, সাধারণত র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট (RAT) বা হোম-টেস্টিং কিট হিসেবে পরিচিত, প্রাথমিকভাবে দ্রুত ফলাফল পাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি নির্দিষ্ট ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন সনাক্ত করে।

অন্যদিকে, আলতা টেস্ট বলতে সাধারণত PCR (Polymerase Chain Reaction) বা অন্যান্য ল্যাব-ভিত্তিক পরীক্ষাকে বোঝানো হয়, যা অধিক নির্ভুল এবং সংবেদনশীল। আলতা টেস্ট ভাইরাসের জিনগত উপাদান সনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়, যা ভুল ফলাফলের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।


কেন কিট টেস্ট পজিটিভ আসতে পারে?

আপনার কিট টেস্টে পজিটিভ আসার কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে:

  1. প্রকৃত সংক্রমণ: যদি আপনি সত্যিই সংক্রমিত হয়ে থাকেন, তবে কিট টেস্ট দ্রুত সংক্রমণ শনাক্ত করতে পারে।
  2. ফলস পজিটিভ: কিছু কিটে ভুল ফলাফল (False Positive) আসতে পারে। এটি সাধারণত নিম্নমানের টেস্ট কিট, টেস্টের ভুল পদ্ধতি, বা পরিবেশগত দূষণের কারণে ঘটে।
  3. সংক্রমণের শেষ পর্যায়: যদি আপনার শরীরে সংক্রমণ থাকলেও তা শেষ পর্যায়ে পৌঁছে থাকে, তবে অ্যান্টিজেনের মাত্রা কমতে পারে, যা কিট টেস্টে পজিটিভ দেখাতে পারে কিন্তু ল্যাব-ভিত্তিক পরীক্ষায় নেগেটিভ আসতে পারে।
  4. ভাইরাসের মৃত অংশ: আপনি যদি পূর্বে সংক্রমিত হয়ে থাকেন, তবে ভাইরাসের কিছু মৃত অংশ আপনার শরীরে থাকতে পারে, যা কিট টেস্টে ধরা পড়ে।


আলতা টেস্ট নেগেটিভ আসার কারণ:

যদি আপনার আলতা বা PCR টেস্ট নেগেটিভ আসে, তাহলে এর সম্ভাব্য কারণগুলো হতে পারে:

  1. সংক্রমণ নেই: PCR টেস্ট সাধারণত ভাইরাসের উপস্থিতি সবচেয়ে ভালোভাবে শনাক্ত করে। যদি এটি নেগেটিভ আসে, তবে আপনার শরীরে ভাইরাসের কোনো সক্রিয় অংশ নেই বলেই ধরে নেওয়া যায়।
  2. সংক্রমণের শেষ পর্যায়: আপনি সংক্রমিত ছিলেন, কিন্তু আপনার শরীরে ভাইরাসের সংখ্যা এতটাই কমে গেছে যে PCR টেস্ট সেটি শনাক্ত করতে পারেনি।
  3. নমুনা সংগ্রহের সমস্যা: যদি নমুনা সঠিকভাবে সংগ্রহ না করা হয়, তবে পরীক্ষার ফলাফল প্রভাবিত হতে পারে।



করণীয়

যদি কিট টেস্ট পজিটিভ আসে এবং আলতা (PCR) টেস্ট নেগেটিভ আসে, তাহলে আপনাকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে:

১. লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করুন

  • আপনার শরীরে জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, বা শ্বাসকষ্ট আছে কিনা তা খেয়াল করুন।
  • যদি কোনো উপসর্গ থাকে, তাহলে সংক্রমণের সম্ভাবনা থেকেই যায়। এমন পরিস্থিতিতে, আপনাকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।



২. পুনরায় পরীক্ষা করুন

  • যদি আপনার উপসর্গ থাকে এবং সন্দেহ থেকে যায়, তাহলে ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় PCR টেস্ট করাতে পারেন।
  • একইসঙ্গে, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কিট টেস্ট ব্যবহার করে নিশ্চিত হতে পারেন।

৩. সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন

  • পরীক্ষার ফলাফলে দ্বিধা থাকলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের থেকে দূরে থাকুন।
  • অন্তত ৫-৭ দিন আইসোলেশনে থাকুন এবং সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৪. চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

  • আপনার মেডিকেল ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থার ভিত্তিতে ডাক্তার আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো পরামর্শ দিতে পারবেন।
  • যদি কোনো জটিলতা থাকে (যেমন শ্বাসকষ্ট, অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়া), তাহলে দেরি না করে হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

৫. ভ্যাকসিন ও ইমিউনিটি বিবেচনা করুন

  • যদি আপনি সম্পূর্ণ টিকা গ্রহণ করে থাকেন, তবে ভাইরাস আপনার শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে না।
  • আপনার শরীর আগেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, যা দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করতে পারে।



সংক্ষেপে সিদ্ধান্ত

  • কিট টেস্টে পজিটিভ আসলেও এটি ১০০% নিশ্চিত নয়।
  • আলতা (PCR) টেস্ট সাধারণত নির্ভুল হয়, তাই এটি নেগেটিভ হলে প্রকৃত সংক্রমণ না থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
  • লক্ষণ থাকলে সতর্ক থাকতে হবে, পুনরায় পরীক্ষা করা যেতে পারে।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বোপরি, নিজের এবং পরিবারের সুস্থতার জন্য সতর্ক থাকুন এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ